For English Version
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
হোম সারাদেশ

মুন্সিগঞ্জে অস্ত্র তৈরির কারখানা: পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ভিন্ন মত

Published : Tuesday, 13 February, 2018 at 5:39 PM Count : 1544

মিজানুর মাদকাসক্ত হলেও মাদক বেচাকেনার সঙ্গে সে জড়িত নয় বলে দাবি এলাকাবাসীদের। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, খালি বাড়িতে তারা অস্ত্র তৈরি করতো আর মাদক খেতো।

রোববার রাতে চরকেওয়ার ইউনিয়নের গজারিয়াকান্দি গ্রামের একটি ভাঙা টিনের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ গোয়েন্দা পুুলিশ। পরদিন সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ সুপারের কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, সেখানে অস্ত্র তৈরী করা হতো।

সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান সেখানে সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। কারখানার মূল হোতা মিজানুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির স্প্রিংসহ লাগেজে ভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি।

পুলিশের অস্ত্র তৈরির কারখানার সংবাদ মিডিয়ায় প্রচারিত হলে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল গজারিয়াকান্দি গ্রাম থেকে পাওয়া যায় পরস্পর বিরোধী তথ্য।

প্রতিবেশিরা প্রশ্ন তোলেন, ভাঙা টিনের ঘরে অস্ত্র তৈরি হয় কিভাবে? বিশেষতঃ যে ঘরটির পাশ দিয়ে সবসময় লোক চলাচল করে। বাড়ির মালিক অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিজানসহ তার পরিবারের কোন সদস্যই সেখানে থাকেন না। দুই প্রতিবেশির কাছ থেকে সাদা কাগজে পুলিশ জোর করে তিনটি করে স্বাক্ষর নিয়েগেছে হলেও অভিযোগ করেন তারা।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী মুন্সিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী জানান, রোববার রাত সোয়া ১২টার দিকে টহলকালে গজারিয়াকান্দি গ্রামের খোরশেদ দিদারের ছেলে মিজানুর রহমান মিজানের (৩৮) ঘরে অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং অস্ত্র মজুদের সংবাদ পান। সেই সংবাদের ভিত্তিতে রোববার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের খবর পেয়ে মিজানসহ তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘরের খাট ও খাটের নিচ থেকে একটি দেশীয় তৈরি স্নাইপার রাইফেল, ২টি দেশীয় তৈরি ওয়ান শুট্যার গান, ১ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৪ রাউন্ড শর্টগানের গুলি, পিস্তলের ২টি গুলির খোসা, স্নাইপার রাইফেলের ২টি পাইপ, ১টি ছোরা ও চাপাতি, ১টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির ড্রিল মেশিন, ২টি পিস্তল সাদৃশ্য স্টীলের পাত, ৬টি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির স্প্রিং এবং লাগেজে ভর্তি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল, রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গেলে ৭৫ বছর বয়সী প্রতিবেশী হাজী জয়নাল আবদীন জানান, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে পুলিশ মিজানুরের ঘরে নিয়ে যায়। গিয়ে দেখি কাঠের একটি চকির উপর অস্ত্র সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মিজানুর অস্ত্র তৈরি করে কিনা পুলিশ জানতে চাইলে না বলি। এরপর বাসায় এসে শুয়ে পড়ি। কিছুক্ষণ পরই আবার পুলিশ এসে আমার কাছ থেকে ৩টি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়।

তিনি আরও বলেন, আমি হজ করেছি, জীবন গেলেও মিথ্যা কথা বলবো না। মিজানুর রহমানের পরিবারের সদস্যরা শহরের কোর্টগাঁও গ্রামে থাকেন। মিজানুরের স্ত্রী তার শ্বশুরবাড়ি কেওয়ারে থাকে। মিজানুরও গ্রামের বাড়িতে খুব একটা থাকেনা। মাঝে মধ্যে এসে চলে যায়। গত মাসখানেক ধরে মিজানুরের স্ত্রী বাড়ি এসেছিলো। মিজানুরকে গত ১০-১৫ দিন ধরে তারা ওই বাড়িতে দেখেননি। পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে। রাত ১২টার দিকে পুলিশ চলে যায়।

গুহেরকান্দি গ্রামের নুরুজ্জামান ভুইয়ার ছেলে কাঠমিস্ত্রি ওমর ফারুক জানান, তিনি গজারিয়াকান্দি গ্রামের ফয়জুল্লাহ দিদারের বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকেন। বাড়ির মালিক ঢাকায় থাকেন। রোববার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে মিজানুরের ঘরে নিয়ে চকির উপর বিপুল পরিমাণ অস্ত্র দেখায়। আমার কাছ থেকেও সাদা কাগজে ৩টি স্বাক্ষর নেয় পুলিশ।

হাজী জয়নাল আবদীন ও ওমর ফারুক আরও জানান, এখানে কোন অস্ত্র তৈরি হয়না এবং মিজানুরকে কখনও অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করতে দেখেননি। অস্ত্র তৈরিতো দূরের কথা এবং এই অস্ত্র কোথা থেকে এলো তাও তারা জানেন না।

স্থানীয় বৃদ্ধা রাহেলা বেগম, শরিফুন্নেছাসহ প্রতিবেশিরা জানান, মিজানুর মাদকাসক্ত। কিন্তু মাদক বেচাকেনা করতে তারা দেখেননি বা শোনেনওনি। ওই বাড়িতে অস্ত্র বানানোও সম্ভব নয় বলে তাদের ধারণা। এছাড়া, মিজানুরকে তারা কোনদিন কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হতেও দেখেননি বলে জানান।

এই বাড়িতে কোথা থেকে এসব এলো, এ বিষয়ে কথা হয় মিজানুর রহমানের আত্মীয় ও স্থানীয় একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে। মিজানুরের আত্মীয় স্বজনরা বলেন, মিজানুর মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত নয়। কয়েকপিস ইয়াবাসহ মিজানুরের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা ছিলো। এর মধ্যে ১টিতে খালাস পেয়েছে এবং আরেকটি চলমান আছে। কিন্তু হটাতকরে এরমধ্যে অস্ত্র কোথা থেকে এলো এবং ওই বাড়িতে অস্ত্র তৈরি হলো, অথচ কেউ কোনদিনে সেখানে এমন কিছু কাজকর্ম চলছে তার কোন আভাস কেউ পাবে না- এটা অবিশ্বাস্য।

তারা জানান, সপ্তাহখানেক আগে গুহেরকান্দি গ্রামের শামসুল হকের ছেলে সালমানকে ইয়াবাসহ গুহেরকান্দি এলাকায় ডিবির এসআই রাকিবুল হাসান আটক করে। পরে ঘটনাস্থলেই বিপুল পরিমাণ অংকের টাকার বিনিময়ে সালমান মুক্ত হয়। এই সালমানের সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে মিজানুর রহমানের। বাড়িতে স্ত্রী ও পরিবারের কেউ না থাকায় সালমান মিজানুরের বাড়িতে মাঝে মধ্যে থাকতে চায়। গত ১০-১১ দিন আগে মিজানুর সালমানকে তার বাড়ির চাবি দিয়ে দেয়।

মুন্সিগঞ্জ ডিবির ওসি মো. ইউনুচ আলী জানান, খালি বাড়িতে তারা অস্ত্র তৈরি করতো আর মাদক খেতো। মিজানুরের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ২টি মামলা রয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার ডিবির এসআই রাকিবুল হাসান বাদি হয়ে মিজানুর রহমানকে প্রধান আসামিসহ আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। অপরাধীদের পক্ষ নেয়া কারও ঠিক নয়। মিজানুর সম্পর্কে প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা কি বললো- সেটা বিবেচ্য বিষয় না। অপরাধীদের আটকের চেষ্টা চলছে।

-এমএইচএস/এমএ






« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft