For English Version
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
হোম সারাদেশ

যশোরে চেয়ারম্যানের আক্রোশে ‘একঘরে’ পরিবার

Published : Sunday, 11 February, 2018 at 5:36 PM Count : 44

ইউপি চেয়ারম্যানের লোলুপতার শিকার যশোর মণিরামপুর উপজেলা কুলটিয়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের গৃহবধূ সুইটি হালদারের পরিবারকে চরমমূল্য দিতে হচ্ছে। সুইটির সাত বছর বয়সী ছেলেকে সহযোগিদের দিয়ে পোষা কুকুর লেলিয়ে হত্যার চেষ্টার পর থেমে থাকেনি চেয়ারম্যান ও তার অনুসারীরা। 

হামলা, পাল্টা মামলা ও হুমকি দিয়ে বাড়িছাড়া করেছে গৃহবধূ ও তার পরিবারের সদস্যদের। এরপরও থেমে থাকেনি চেয়ারম্যানের অপতৎপরতা। অসহায় পরিবারটিকে ‘একঘরে’ করে রাখা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কারো যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। চেয়ারম্যানের আক্রোশের শিকার গৃহবধূ সুইটি স্বামী ও সন্তান নিয়ে রোববার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেছেন। 

চেয়ারম্যান শেখর ও তার সহযোগিদের অত্যাচারের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন যশোরের মণিরামপুর উপলোর কুলটিয়া ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বিশ্বজিত হালদারের স্ত্রী সুইটি হালদার। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুলটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায়। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুইটি হালদার বলেন, চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায় এলাকায় খুব প্রভাবশালী। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় আমার পরিবার ধ্বংস করে দিচ্ছে। একের পর এক হামলা, মামলা হুমকিতে আমরা নিরাপত্তাহীনতা ভুগছি। গ্রামে শ্বশুর, শাশুড়ি, স্বামী সন্তান নিয়ে আমাদের সুখের সংসার ছিল। চেয়ারম্যানের আক্রোশে আমাদের পরিবারে ঝড় বইছে। আমাদেরকে ‘একঘরে’ করে রাখা হয়েছে। আমাদের সঙ্গে কারো যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি আমার কাকা শ্বশুররাও ভয়ে আমাদের এড়িয়ে চলছে। পরিবারের পাঁচ সদস্য পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমার ছেলে স্কুলে যেতে পারছে না। আমার বড় অপরাধ চেয়ারম্যানের কুপ্রস্তাবে রাজি হইনি, তার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছি। আমরা চেয়ারম্যানের অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে চাই।’

সুইটি হালদার অভিযোগ করেন, কুলটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায় তার সহযোগী পলাশ বিশ্বাসের মাধ্যমে গৃহবধূ সুইটি হালদারকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্বামী বিশ্বজিৎ হালদারকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়ানো ও ছেলেকে অপহরণের হুমকি দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে গত ২৮ জানুয়ারি সুইটির ছেলে প্রথম শ্রেণীর ছাত্র অয়ন হালদারকে কুকুর লেলিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ওইদিন সন্ধ্যায় স্বামী বিশ্বজিৎ হালদার মোটরসাইকেলে মশিয়াহাটি বাজারে যাওয়ার পথে চেয়ারম্যানের নির্দেশে ভবেন বিশ্বাসের ছেলে পলাশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। 

পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পলাশ বিশ্বাসের নেতৃত্বে বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত ও জখম করা হয়। হামলার সময় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে এক হামলাকারী। ২৯ জানুয়ারি শালিস মীমাংসার কথা বলে চেয়ারম্যানের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা স্বামী বিশ্বজিৎ, শ্বশুর নিতাই, কাকা শ্বশুর তপন, সমীর হালদারকে মারপিট করে। এক পর্যায়ে স্বামী বিশ্বজিৎ ও কাকা শ্বশুর তপন অজ্ঞান হয়ে যান। তাদের রক্ষা করতে গেলে সুইটির ওপর হামলা চালানো হয়। হাতে চুড়ি ভেঙে, মাথার সিঁন্দুর মুছে দেয়। 

তারা বলতে থাকে তোর স্বামী মরে গেছে, তোকে বিধবা করে দিলাম। মারপিট করে ফেলে রেখে দেয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধা দেয়। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে মামলা করায় গৃহবধূ সুইটির পরিবারকে একঘরে করা হয়েছে। গ্রামের সবার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি মণিরামপুর থানায় সুইটি হালদারের শ্বশুর নিতাই হালদার বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। পরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে সুইটি হালদার সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায় ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করায় আসামি পলাশ বিশ্বাস বাদী হয়ে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সুইটি হালদারের স্বামী বিশ্বজিত হালদারসহ পাঁচ স্বজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। 

কুলটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখর চন্দ্র রায় বলেন, আমি কোন ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। কবে মিটিং হলো, কারা মারপিট করলো আমি কিছুই জানি না। আমার প্রতিপক্ষের লোকজন ওদের ব্যবহার করছে।

তিনি আরও বলেন, ওই পরিবারকে একঘরে করা হয়নি। তারা ইচ্ছা করেই এলাকায় আসছে না। বিশ্বজিতের বাবা মা গ্রামে থাকে। মিথ্যা মামলা করায় গ্রামবাসী ওদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না।

মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন বলেন, সুইটির পরিবারকে একঘরে করে রাখার অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও সুইটির শ্বশুরের দায়ের করা মামলা তদন্ত চলছে।

এসআর/আরইউ






« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft