For English Version
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
হোম শিক্ষা ও ক্যাম্পাস

দেশসেরা রাজশাহী কলেজের ‘ভ্রাম্যমাণ সততা লাইব্রেরি’

Published : Saturday, 10 February, 2018 at 4:29 PM Count : 77

রাজশাহী কলেজ দেশের মডেল কলেজের স্বীকৃতি পেয়েছে বেশ আগেই। আর এর স্বীকৃতির পেছনে রয়েছে এই কলেজটি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নতুন নতুন আবিস্কার, শিক্ষা, শিল্প-সাহিত্যে, মননে-সৃজনে, বিজ্ঞানে-প্রযুক্তিতে অসাধারণ সাফল্য। যা ইতিমধ্যেই সবাইকে অবাক করে দিয়েছে। আর এই সাফল্যের সাথে এবার যোগ হল ‘ভ্রাম্যমান সততা লাইব্রেরি’। 

এই লাইব্রেরি রাজশাহী কলেজের নিজ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে। শুধু শিক্ষার্থীরা নয়, এই লাইব্রেরির সুবিধা পাবে কলেজে আগত দর্শনার্থীসহ আভিভাবকরাও। কলেজ চলাকালীন (সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা) পর্যন্ত সবাই এই সততা লাইব্রেরি ব্যবহার করতে পারবে।

এই লাইব্রেরির বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে, লাইব্রেরি থকে পাঠকগণ নিজের ইচ্ছামত পুস্তক গ্রহণ করে পড়ার পর ঐ দিন স্বেচ্ছায় এই লাইব্রেরিতে বই ফেরত দেবে। যেখানে কোন লাইব্রেরি কর্মী সেবাদান বা পাহারার জন্য নিযুক্ত থাকবে না। এই গ্রন্থাগারের অন্যতম লক্ষ হচ্ছে শিক্ষার্থীদের মাঝে সততার চর্চা প্রসার ঘটানো। এর ফলে ব্যবহারকারীদের সততা ও সৎ গুনাবলী এই লাইব্রেরি পরিচালনার প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচ্য হবে। এই মহান কর্মের সূচনা হয়েছে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমানের উদ্যোগে।

রাজশাহী কলেজের ইতিহাস বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী রুকাইয়া মীম বলেন, এই লাইব্রেরি থেকে শিক্ষার্থীরা নিজেরা বই নিয়ে পড়ার পর আবার নিজেরাই রেখে দেয়। ফলে শিক্ষার্থীদের সততা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া কলেজ লাইব্রেরীর পাশাপশি আলাদা বই পড়ার সুযোগ করে দেয়। অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা চার দেয়ালের বাইরে পড়তে চায়। তাদের জন্য নতুন সুযোগ করে দিয়েছে এই লাইব্রেরি। কারণ এখন অনেকেই মাঠে বসে বিভিন্ন বই পড়তে পারবে।

উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী বাদশা বুলবুল বলেন, আমরা সাধারণত লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়তাম। সেখোনে ঢুকতে লাইব্রেরি কার্ড দেখাতে হতো। কিন্তু এই ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির ফলে আমারা যে কোন সময় বই পড়তে পারবো। এই সেবা নিয়ে আমার আমাদের জীবনকে বইয়ের আলোই আলোকিত করতে পারবো।
 
শ্রেণি কক্ষের বাহিরে এবং পাঠ্যকার্যক্রমের অবসরেও শিক্ষার্থীগণ কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে না বসে তার বিভাগের সন্নিকটে অবস্থিত এই সততা লইব্রেরির সুবিধা ভোগ করতে পারবে। ভ্রাম্যমান লইব্রেরি ছাড়াও কলেজে রয়েছে একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার। অনেক পুরানো বই, গেজেট, বিশ্বকোষ, পুঁথি, পান্ডুলিপি এবং পত্র-পত্রিকা দ্বারা গ্রন্থাগারটি সমৃদ্ধ।

তার পরেও শিক্ষার্থীরা যেন পাঠ্য কার্যক্রমের অবসরে তাদের মননশীলতা, মানবিক গুনাবলির বিকাশ এবং নিজেকে দ্বধিত্বশীল নাগরীক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে সেই লক্ষেই এই ভ্রাম্যমান সততা লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধা বিকাশে এই ভ্রাম্যমান গ্রন্থাগার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে বলে মনে করেছেন অবিভাবকেরা।

রাজশাহী শহরের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত এ কলেজটি ব্রিটিশ আমল থেকেই শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠের মর্যাদা পেয়ে এসেছে। শুধু রাজশাহী অথবা উত্তরবঙ্গ নয়, এ কলেজের ইতিহাস ও সুনামের কথা ছড়িয়ে আছে দেশজুড়েই।

তারই ধারাবাহিকতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সারা বাংলাদেশে কলেজ র‌্যাংকিংয়ে দুইবার প্রথম স্থান অধিকার করেছে এ কলেজটি। অনেক ইতিহাস ঐতিহ্য জড়িত রয়েছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে। অবিভক্ত ভারত বর্ষে রাজশাহীর পরিচয় ছিল মূলত রাজশাহী কলেজের নামে। শুধু তাই নয় ভাষা শহীদদের উৎসর্গ করে দেশের প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয় রাজশাহী কলেজে। কলেজ পর্যায়ে বৃহত্তম মানব পতাকা প্রদর্শনের কৃতিত্ব লাভ করেছে এই কলেজ।

এছাড়া বাংলাদেশ ভূখন্ডের আদলে ব্যতিক্রমী ‘মানব মানচিত্র এবং বাংলাদশের হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু’ তৈরি করেছে রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা। কলেজের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একাত্তরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে লাল-সবুজ প্লাকার্ডের ব্যবহারে বিশাল এ মানব মানচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বর্তমানে রাজশাহী কলেজ একবিংশ শতাব্দির প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে ডিজিটাল করে নিয়েছে।

রাজশাহী কলেজের গ্রন্থাগারিক মুহাম্মদ মহিউদ্দীন জানান, শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে অজানাকে জানতে পারবে। তারা মুক্ত ভাবে চিন্তা করতে পারবে। তাদের চিন্তার জগতকে জাগ্রত করার পাশাপাশি সততা ও সৎ গুনাবলী তৈরির লক্ষেই এই লাইব্রেরির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমান বলেন, এখানে ইতিহাস, ঐতিহ্য থেকে শুরু করে সব রকমের বই থাকবে। ফলে এ লাইব্রেরির মধ্যমে আলোকিত মানুষ তৈরি হবে। বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বই পড়া একবারেই কমে গেছে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আবার বইয়ের দিকে ফিরে যাবে। তাছাড়া শুধু রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা নয় অন্য স্কুল-কলেজের শিক্ষাথী, দর্শনার্থীসহ আভিভাবকরাও এর সুবিধা পাবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে দুইটি ভ্রাম্যমান সততা লাইব্রেরির করা হয়েছে। অতি শিঘ্রই আরো দুটি বাড়ানো হবে। সর্বপরি এটি একটি সততা চর্চা কেন্দ্র হিসাবে প্রতিষ্টা পাবে বলে মনে করেন তিনি।

আরএইচএফ/আরইউ






« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft