For English Version
শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮
হোম সারাদেশ

উদ্বোধনের অপেক্ষায় মানিকগঞ্জ পৌর মুক্তিযোদ্ধা শিশু পার্ক

Published : Sunday, 14 January, 2018 at 8:16 PM Count : 29

উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে মানিকগঞ্জবাসীর বহুল প্রত্যাশিত পৌর মুক্তিযোদ্ধা শিশু পার্কটি।

শহরের প্রাণকেন্দ্রে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পাশে দীর্ঘদিন আগে নির্মিত হয়েছিল শিশুদের বিনোদনের এই জায়গাটি। কিন্তু সেই পার্কটি কিছুদিন যেতে না যেতেই অযত্নে আর অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছিলো।

পার্কটি সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামের পর এখন পার্কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে সংস্কার কাজ। সংস্কারের জন্য করা হয়েছে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি।

তারা হলেন, আহ্বায়ক পৌর কাউন্সিলর সুভাষ সরকার, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান মামুন, সদস্য পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সাবিহা হাবিব, সদস্য দীপক কুমার ঘোষ ও সদস্য আকরাম হোসেন খান।

সংস্কার আসছে নামের ক্ষেত্রেও। মুক্তিযোদ্ধা শিশু পার্ক নাম পরিবর্তন করে নাম দেয়া হচ্ছে পৌর মুক্তিযোদ্ধা শিশু পার্ক। কিছুদিন আগেও পার্কটিতে ছিলো শুধু খেলাধূলা করার রাইটসগুলোর কঙ্কাল। ফলে খেলাধূূলা করতে পারছিলো না শহরের শিশুরা। ফলে খেলাধুলা ও বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল শিশুরা।

'যদি পার্কের সবকিছু ঠিক থাকতো তাহলে আমাদের খেলাধুলার জন্য অনেক ভালো হতো। জানি না এসব কবে ঠিক হবে' মানিকগঞ্জ শিশু পার্কের সামনে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলেছিলেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

বহুদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকার পর জেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং সুশীল সমাজের উদ্যোগে এই পার্কটির সংস্কার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সকালে বিকেলে শহরের অনেক শিশুই পার্কে এসে আনন্দে উল্লাসে মেতে উঠে। উদ্বোধন হয়ে গেলেই স্বস্তি ফেলতে পারবে মানিকগঞ্জবাসী।

জানা গেছে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন স্থানে এই মুক্তিযোদ্ধা পার্কটি গড়ে তোলা হয়। পার্কটিতে প্রথমে ৩টি দোলনা, নাগরদোলা, চরকাসহ ৮-৯টি বিভিন্ন ধরণের রাইডার বসানো হয়েছিলো। শুরুতে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় শিশুরা পার্কে এসে তাদের খেলার সাথীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতো। অব্যবস্থাপনার কারণে শিশুরা অনেকদিন আর এই পার্কে আসে না। আর যাও আসতো বিকল হয়ে পড়া খেলনা ব্যবহার করে অনেক শিশুই প্রতিনিয়ত জখম হতো।

পার্কে আগত পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী সানজিদা আক্তারের মা হোসনে আরা বেগম বলেন, পার্কটি ঠিক করায় আমাদের বাচ্চাদের খেলাধূলা করতে এখন আর অসুবিধা হবে না।  বাচ্চারা সারাদিন স্কুলে, মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষে বিকেলে একটু খেলাধূলা করতে পারছে।

রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ দিন ধরে পার্কটি অকেজো হওয়ায় মানিকগঞ্জ শহরে শিশুদের বিনোদনের জন্য কোনো ভালো স্থান ছিলো না। পার্কটি সংস্কার করায় বাচ্চাদের খেলাধূলা করতে এখন আর অসুবিধা হবে না।

সানজিদা আক্তার বলেন, পার্কটি ঠিক করায় আমাদের খুব ভালো লাগছে। এখন থেকে আমরা প্রতিদিন এখানে খেলাধূলা করতে পারবো।

মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম ছারোয়ার ছানু জানান, পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলার একমাত্র শিশু পার্কটি শিগ্রই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রসংশার দাবীদার। সেই সঙ্গে জেলা শিশুদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে সংস্কারের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্ত্বার দাবি জানান।

পৌর মুক্তিযোদ্ধা শিশু পার্ক নির্মাণ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট দীপক কুমার ঘোষ জানান, পৌর মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংস্কার মানিকগঞ্জবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা ছিল। এ নিয়ে অনেক আন্দোলন, সংগ্রাম, মানববন্ধনও করা হয়েছিল। এছাড়া গত পৌর নির্বাচনের সময় মেয়রের দেওয়া আশ্বাসে পার্কটি সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে। এটা পৌরবাসীর কাছে একটি সুখবর ও আনন্দের। যা পার্কে আসা শিশুদের মানসিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে। এক সময়ে হয়তো শিশুদের ও অভিভাবকদের আগমনে পার্কটি মিলন মেলায় পরিণত হবে।

পৌর মুক্তিযোদ্ধা শিশু পার্ক নির্মাণের আহ্বায়ক কাউন্সিলর সুভাষ সরকার জানান, গত পৌর নির্বাচনের সময় মেয়র ও আমার নির্বাচনী ইশতেহারে ছিলো পার্কটি সংস্কার করা। মেয়রের প্রচেষ্টায় খুব তাড়াতাড়ি পার্কটি উদ্বোধন হতে চলেছে। ইতিমধ্যে পার্কের সংস্কার কাজ প্রায় শেষ। আশা করি এ মাসের মধ্যেই পার্কটির উদ্বোধন হয়ে যাবে।  

পৌর মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম জানান, ইতিমধ্যেই পার্কটি সংস্কারের কাজ অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই আর বাকি অংশের সংস্কার শেষ হয়ে যাবে। আশা করি আগামী মাসের মধ্যেই উদ্বোধনের মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য পার্কটি উন্মুক্ত করা হবে।

জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাদাত সেলিম জানান, দীর্ঘ দিন যাবৎ অবহেলিত শিশু পার্কটি অচিরেই উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। আশা করছি নাগরিক জীবন থেকে কিছুটা খোলা আবহাওয়া ও স্বস্তি পেতে শিশু পার্কটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সংস্কারের পাশাপাশি পার্কটিতে রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখা হবে।

-এসআইএস/এমএ








« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: info@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com,   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft