For English Version
মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮
হোম সারাদেশ

শৈত্যপ্রবাহে লোকসান পান চাষিদের

Published : Friday, 12 January, 2018 at 5:45 PM Count : 20

তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে ঠান্ডাজনিত কারণে পানের বাজারে ধ্বস নেমেছে। চারদিনের ব্যবধানেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পান চাষিদের কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি লোকসানের মুখে পড়েছে স্থানীয় পান ব্যবসায়ীরা।

বরজ থেকে ভেঙে গোছানোর পরে দেখা দিচ্ছে ভাল পানে কালো দাগ ও পচন রোগ। আর এতেই ভাগ্য টলে গেছে চাষিদের। ভবিষ্যৎ চিন্তায় আতঙ্কসহ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

পানের পাতাই যেন সোনা। জেলায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে পান অতি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। রাজশাহীর সুস্বাদু পানের কদর সবসময়ই বেশি। কিন্তু ঠান্ডা ও খরা সহিষ্ণু নতুন জাতের উদ্ভাবন না হওয়ায় প্রতিবছরই আবহাওয়াজনিত কারণে গাছসহ পানে নানা রোগে আক্রমন করে থাকে। তবে চাষিদের পান গবেষণাগারের দাবির বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। প্রেক্ষিতে কান্ড পচা ও পাতা মরা রোগে চাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

বর্তমানে রাজশাহীর পানচাষীদের পোয়া ভারিই ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঠান্ডার কালো মেঘ আঘাৎ করায় চারদিনের ব্যবধানে প্রকার ভেদে এক পোয়া (৩২ বিড়াই এক পোয়া এবং ৬৪ পানে এক বিড়া) বড় পানের দাম তিন হাজার থেকে থেকে নেমে ৮শ’টাকা, মধ্যম পান প্রতি পোয়া ১৬শ’থেকে নেমে ৫শ’টাকা এবং ছোট পান প্রতি পোয়া ৫শ’ থেকে নেমে ৩ শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আবার বিভিন্ন মোকামে বাজার কমে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও সর্বসান্ত হয়েছে। মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি পানহাটের বড় ব্যবসায়ী ইসলাম আলী। তিনি গত রোববার ১২ লাখ টাকার পান ক্রয় করেন। মৌগাছি হাট থেকে সেদিনই তিনি দেশের ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, ঠাকুরগাঁ, নীলফামারীসহ বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করেন। তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে প্রচন্ড ঠান্ডায় পানের ওপর কালো দাগ পড়া ও পচে নস্ট হওয়ায় মাত্র ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তার মত আরো পান ব্যবসায়ী আকতার হোসেন ও আলতাব হোসেন জানান, রোববার হাটে দুজন মিলে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার পান কিনেছিলেন। নিলফামারী ও পীরগঞ্জে পাঠিয়ে মাত্র ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ বছরে কোন মতেই এই লোকসান উঠানো সম্ভব নয়। ব্যবসায়ী ইসলাম আলী বলেন, ভাগ্য টলে গেছে। মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে ১২ বছরের সাধনা ও রোজগার চোখের সামনে হারিয়ে গেল। ১২ লাখ টাকার পানে লোকসান হয়েছে সাড়ে ৮ লাখ টাকা।

বুধবার মৌগাছি বাজারে পানচাষি ইব্রাহীম খন্দকার, ফজলুর রহমান ও মাহবুব আলম তোতা বলেন বরজ থেকে ভাল পান সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাজারজাত করণে প্রক্রিয়াজাত করতে গোছানো ও গাদি করা হয়। এরপর বিক্রির পালা। কিন্তু সকালে পানচাষিদের মাথায় হাত। যে বিড়া টানা হচ্ছে তাতেই নুন্যতম অর্ধেকে কোনটা কালোদাগ আবার কোনটা পচা। রোববারের দামের চেয়ে আজ প্রতি পোয়ায় দেড় হাজার টাকা কম। একদিকে দাম কম অন্যদিকে পানে দাগ। অনেকে দাম না পেয়ে পান ফেলে মনের দুঃখে বাড়ি ফিরেছেন। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে সর্বস্বান্ত হবে চাষিরা।

বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশের পানের যথেষ্ট কদর রয়েছে। তবে গবেষণার অভাবে রপ্তানীযোগ্য পান উৎপাদনে ব্যর্থ হচ্ছে চাষি। এর কারণ অনুসন্ধানে জানাযায়, গত দু’দশক ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার পান বরজে রোগ ও পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। রোগ-বালাই’র আক্রমন থেকে পান বরজ রক্ষা করতে না পেরে সর্বশান্ত হয়েছে অনেক চাষি। তারা বলছেন, দেশের অনেক অর্থকরি ফসলের চেয়েও অনেকাংশে লাভজনক পান চাষ। কিন্তু সনাতন চাষপদ্ধতি, নতুন জাত উদ্ভাবন না হওয়া ও নানারোগে গাছ-পাতার পচন এ সম্ভাবনার লাগাম টেনে রেখেছে। তাই যথাযথ গবেষণা ও উদ্যোগ নিলে বিপ্লব ঘটিয়ে দিতে পারে পচা ও দাগের জন্য চাষিদের মুখের হাসি বিলিন হচ্ছে।

পান গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি তুলে শিক্ষিত চাষিরা বলছেন, রাজশাহীর ২৪-২৫ (ভাঙ্গা-গড়া আছে) হাজারের অধিক পান বরজের প্রত্যক্ষভাবে জড়িত লাখ লাখ পান চাষির জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যতই পাল্টে দিতে পারে যথাযথ গবেষণায়। যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যসহ আর যেসব দেশে এখানকার পানের চালান যাচ্ছে তা যে আরো বাড়বে সে বিষয়েও কোন সন্দেহ নেই।

নাম না প্রকাশ করা শর্তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের এগ্রোনমী অ্যান্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনসন বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপক ‘বাস্তবতার নিরিখে দেখা যায় পানের পাতাই সোনা। সনাতন নিয়ম ছেড়ে আধুনিক জ্ঞানের আলোয় গবেষণাভিত্তিক পান চাষ করে ১ বিঘা জমি থেকে বছরে ২/৩ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। কিন্তু পুরাতন পদ্ধতিতে পান চাষ করার কারণে চাষিদের ভাগ্যের ওপরে নির্ভর করে। কোন কোন সময় আবাদ ভাল হয়। আবার কখনো খারাপ। তাই অঞ্চলে পান গবেষণা কেন্দ্র একান্ত প্রয়োজন।

২০০০ সালের পর থেকে মিষ্টি সুস্বাদু পানের জন্য খ্যাত পবা-মোহনপুরে-বাগমারা উপজেলায় পানের বরজে দেখা দেয় গোড়া পচা, শিকড় পচা ও পাতা ঝরা রোগ। এই তিন রোগের কারণে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন স্থানীয় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা। দাগ ও পচা রোগ এখনো অব্যহতভাবেই ছড়াচ্ছে। ফলে লোকসান চাষিদের ভাবিয়ে তুলেছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে- জেলার পবা, মোহনপুর, বাগমারা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর, চারঘাট এই ছয়টি উপজেলায় এবার ২ হাজার ১৯৬ হেক্টর (১৬ হাজার ৩৪০ বিঘা) জমিতে পানের আবাদ রয়েছে। যারমধ্যে পবায় ১০৫ হেক্টর, মোহনপুরে ৮৯০ হেক্টর, বাগমারায় ৬৬০ হেক্টর, দুর্গাপুরে ৪৭০ হেক্টর এবং পুঠিয়ায় ৭০ হেক্টর।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) দেব দুলাল ঢালী পানের রোগ-বালাই এবং একটি গবেষণাগার স্থাপন প্রশ্নে বলেন, এ ব্যাপারে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। পানের রোগ-বালাই সম্পর্কে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, জীব মানেই পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে সাথে রোগ বালায়ও আক্রমন করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক যত্ন নিলে আশানুরুপ ফল পাবেন চাষিরা। তিনি বলেন, পরিবেশের সাথে খাপখাওয়ানো যায় এমন নতুন জাত উদ্ভাবন হলে চাষিদের ভাল হতো। শেষে বলেন এখনো গবেষণাগার স্থাপনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরএইচএফ/এইচএস








« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: info@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com,   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft