For English Version
শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮
হোম জাতীয়

টঙ্গীর তুরাগ তীরে মুসল্লিদের ঢল

Published : Thursday, 11 January, 2018 at 7:29 PM Count : 52

বিশ্ব ইজতেমা

বিশ্ব ইজতেমা

টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুক্রবার আম-বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ জমায়েতকে সফল করতে প্রস্তুত প্রশাসন। ইতোমধ্যে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো ইজতেমা ময়দান।

এদিকে ইজতেমার প্রথম দিন শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার নামাজ। নামাজে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকার মুসল্লিরা অংশ নেবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
 
মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিল্লির নিজামউদ্দীন মারকাজের মুরব্বি মাওলানা সা’দের আগমন বা ফিরে যাওয়াতে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের মধ্যে কোনো প্রকার প্রভাব পড়েনি।

সরেজমিন দেখা গেছে, টুপি, জুব্বা, পাঞ্জাবি পরিহিত বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্রোত এখন টঙ্গীর তুরাগমুখী। কেউ বাসে-মিনিবাসে চড়ে কেউবা ট্রেনে চড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইজতেমা ময়দানে আসছেন। পুরো ইজতেমা ময়দান যেন এক জনসমুদ্র। খিত্তায় খিত্তায় চলছে রান্নাবান্না, তাসবিহ তাহলিল ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা।

ইজতেমার মুরুব্বিরা দলগতভাবে ভাগ হয়ে খিত্তায় খিত্তায় আলোচনা করছেন। এবারের ইজতেমায় অন্তত ১৩৫টি দেশের ১০ হাজারের বেশি বিদেশি মেহমান ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৬টি জেলার মুসল্লিরা প্রথম পর্বে অংশ নিচ্ছেন। ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হওয়ায় অনেকটা আরাম-আয়েসে ইবাদত-বন্দেগি করছেন মুসল্লিরা। মুসল্লিদের অজু-গোসল নিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

মুসল্লিদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদে ৯টি ভাসমান পন্টুন সেতু নির্মাণ করেছেন। ১৬০ একর জমির ওপর নির্মিত সুবিশাল প্যান্ডেলের কাজ, খুঁটিতে নম্বর প্লেট, খিত্তা নম্বর, জুড়নেওয়ালি জামাতের কামরা, তাশকিল কামরা, হালকা নম্বর বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো মাঠে শব্দ প্রতিধ্বনি রোধক প্রায় ৩০০টি বিশেষ ছাতা মাইক স্থাপন করা হয়েছে। তবে যে সব দেশে জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে সেসব দেশের নাগরিকদের ইজতেমায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ইজতেমার ময়দানে ২৮টি খিত্তায় জেলা অনুসারে অবস্থান নিয়েছেন মুসল্লিরা। ১৩টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে সুপেয় পানি। পয়ঃনিষ্কাশন ও অযু-গোসলের জন্য নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।

খিত্তায় অবস্থানকারী মুসল্লিদের কয়েকজন জানান, এবারের ইজতেমায় নেয়া সব ধরনের প্রস্তুতি সন্তোষজনক। অযু, গোসল, রাস্তাঘাট এবং চলাচলে তাদের কোনো সমস্যা নেই। গতবারের চেয়ে এবারের আয়োজন অনেক বাড়ানো হয়েছে। এতে মুসুল্লিরা নির্বিঘ্নে তাদের প্রাত্যহিক কাজ করতে পারছেন।

যোগাযোগ ব্যবস্থা : এ বছর দুই পর্বেই বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা থাকবে। এর জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ইজতেমার আগের দিন থেকে ৪টি বিশেষ ট্রেন ছাড়াও ‘আখেরি মোনাজাতের দিন ঢাকা-টঙ্গী, টঙ্গী-ঢাকা-আখাউড়া-ময়মনসিংহ-ইশ্বরদীতে ১৫টি ট্রেন চলাচল করবে। ইজতেমার মুসল্লিদের জন্য ট্রেনে ওজু, নামাজ পড়াসহ সব ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপরদিকে বিআরটিসির পক্ষ থেকে প্রায় ১০০ বাস দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম : টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, টঙ্গী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালকে ইজতেমার জন্য অস্থায়ীভাবে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণের জন্য ১টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, ১টি হৃদরোগ ইউনিট, ১টি বক্ষব্যাধি/অ্যাজমা ইউনিট, ১টি ট্রমা (অর্থোপেডিক) ইউনিট, ১টি বার্ন ইউনিট, ১২টি স্যানিটেশন টিম এবং ১২টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা : ইজতেমার ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। হঠাৎ কোনো কারণে ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে বদল করা যায় এ জন্য ৫টি ট্রলি ট্রান্সফরমার রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে চারটি জেনারেটর সব সময় প্রস্তুত থাকবে। ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বি প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ইজতেমা ময়দানের প্রস্তুতির কাজ ১০০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম পর্বে অংশগ্রহণকারী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ময়দানে স্ব-স্ব খিত্তায় এসে অবস্থান নিচ্ছেন।

এদিকে টঙ্গীর আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পুলিশ সদস্যদের তাদের স্ব স্ব দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি মঈনুর রেজা চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল কালাম সিদ্দিক, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল শেখ।

এবারের ইজতেমায় প্রথম পর্বের আখেরি মুনাজাত অনুষ্ঠিত হবে ১৪ জানুয়ারি। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১৯ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

এইচএস








« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: info@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com,   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft