For English Version
শনিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৮
হোম মতামত

নির্বাচনের বছর: উৎসবের না আতঙ্কের

Published : Thursday, 4 January, 2018 at 7:29 PM Count : 157

ক্যালেন্ডার বদলের প্রাক্কালে জাতি রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপহার পেলো। নতুন বছরের দ্বিতীয় মাসে উপহার হিসেবে পাওয়া যাবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে উপনির্বাচন। তারপর একে একে হবে খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। বছরের মাঝামাঝি হবে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। সবশেষে ২০১৮ কে বিদায় জানাবে জাতীয় নির্বাচন উৎসব মাধ্যমে। সঙ্গত কারণেই বলা যায় ২০১৮ নির্বাচনেরই বছর।  

রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাওয়ার পথে জিরিয়ে নেয়ার মতো গ্রহণ করছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে। এখানে বর্জনের মাধ্যমে অর্জনের চেষ্টাও দেখা যায়। অবশ্য সেটা ছিটেফোঁটা বলেও মনে করছে কেউ কেউ। তারপরও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে তারা গুরুত্বসহ দেখছে। ব্যবহার করতে চাইছে, জাতীয় নির্বাচনের সিঁড়ি হিসেবে। রাজনৈতিক ইসু বানিয়ে ভোটারদের মন জয় করার কৌশল হিসেবে। রাজনীতিতে নতুন কিছু নয় এই প্রক্রিয়া। এটা গেলো ভোটের রাজনীতির একটা দিক। কিন্তু তার আগেই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের দাবিনামাও উপস্থাপন করে বসে আছে। তারা নিজেদের লক্ষ্য উদ্দেশ্যও প্রকাশ করেছে সুযোগ মতো। 

সভাসমাবেশের বাইরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপ চলাকালে ৪২টি রাজনৈতিক দল তাদের প্রস্তাবনা বা দাবির লিখিত অবস্থান বর্ণনা করেছে। সঙ্গত কারণেই আগামী নির্বাচনে দলীয় কর্মসূচি চিন্তাভাবনাগুলোর একটা স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যেতে পারে সেখান থেকে। আর সেখানেই কিছু দ্বন্দ্ব স্পষ্ট দেখা যায়। যা আমাদের ভাবিয়ে দিতে যথেষ্ট। ভাবনা যে অমূলক নয়, বোধ করি ২০১৩-১৪ সালের কথা স্মরণ করলে যে কেউ স্বীকার করবেন। 

বিএনপি’র পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে জুলাই-আগস্ট থেকে তারা আন্দোলনে চূড়ান্ত শক্তি প্রয়োগ করতে যাচ্ছে। তার আগে সাতটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে তারা টেস্টকেইস হিসেবে দেখছে। এই মুহূর্তে যেসব রাজনৈতিক ইসু তাদের সামনে, তা নিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন করে সুবিধা হবে না ভেবেই হয়তো তারা এমত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। তারা এমনও ভাবতে পারে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো তাদের আন্দোলনের পথ করে দেবে। এর প্রথম ধাপ আমরা দেখার অপেক্ষা করছিলাম রংপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকালে। 

ঢাকা ও রংপুরের মধ্যে একটা যোগসূত্রও দেখা গিয়েছিলো। বিএনপি নেতা রুহুল কবীর রিজভী নয়া পল্টন অফিসে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনালেন সাংবাদিকদের সামনে। তিনি পড়লেন, রংপুরে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে। আর তাদের প্রার্থীকে কারচুপি করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্য সেখানে বিএনপি মেয়র প্রার্থী নির্বাচিত প্রার্থীর ছয় ভাগের একভাগ ভোট পেতে সমর্থ হয়েছিলেন। যদিও সেই নির্বাচনকে অত্যন্ত সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হিসেবে অন্য দলগুলো এবং পর্যবেক্ষকগণ উল্লেখ করেছেন। লক্ষণীয় যে রিজভী সাহেবের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আবার নির্বাচনকে সুষ্ঠু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মানে প্রথম ধাপেই বোমেরাং। তারপরও তারা ট্রেন ফেইল করেছে মনে করছে না। হয়তো আশায় আছে ঢাকা মহানগরের নির্বাচন তাদের সেই সুযোগ এনে দেবে। বিএনপি কিংবা সরকার বিরোধী অন্য দলগুলো সেই অপেক্ষা করতেই পারে। 

আবার এমনটাও মনে করার কারণ নেই, আওয়ামী লীগের নৌকা অতি সহজেই পার পেয়ে যাবে। আর সেটা মানতে যাদের সময় ব্যয় হয়, তাদের বর্তমানকে বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন আছে। নির্বাচনের একবছর আগেই যে আলামত দেখা যাচ্ছে তাকেও কিভাবে মূল্যায়ন করা হবে। সরকারি দল তাদের চলতি মেয়াদে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছে সেগুলোর ওপর তারা ভরসা করে আছে। একটি গণতন্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামোতে নির্বাচিত সরকার যা বাস্তবায়ন করবে তা দিয়েই ওই দলকে বিচার করার কথা। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থা একটু ভিন্নতর। মনে থাকার কথা- সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়ের বিষয়টি। তিনটি সিটি কর্পোরেশনেই তার আগের মেয়াদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীগণ মেয়র ছিলেন। প্রতিটি স্থানেই তারা অনেক অনেক উন্নয়ন করেছেন। 

রাজশাহী শহরের চেহারা পরিবর্তনের কথা বাংলাদেশেই শুধু নয় বিশ্বস্বীকৃতি লাভেও সক্ষম হয়েছিলো। সিলেট এবং বরিশালের উন্নয়নচিত্র দলকে আশান্বিত করেছিলো। সঙ্গত কারণেই তাদের পুননির্বাচিত হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু আখেরে সন্দেহ জোরালো হলো- আসলে উন্নয়ন করলেই নির্বাচনে ভোট পাওয়া যায় না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- বর্তমান সরকারের অনেক ব্যর্থতা থাকার পরও সাফল্যের খতিয়ান টানলে দেখা যাবে রেকর্ড এর সংখ্যাই বেশি। কিন্তু এই খতিয়ান কতটা সাধারণ মানুষের মন টানতে পেরেছে কিংবা জনগণের সামনে তা কতটা উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো কিন্তু অবশ্যই বিবেচ্য। সুতরাং শাসকদল যদি মনে করে থাকে, উন্নয়ন খতিয়ান জনগণের জানা আছে, তাই তাদের আর আটকায় কে? তার পরিণতি রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালের মতো হওয়াও অসম্ভব নয়।

বিরোধী দল চিৎকার করছে, তাদের ওপর নির্যাতন চলছে অবিরাম। তারা সরকারি দমন নিপীড়নের কারণে রাজনীতি করতে পারছে না। সরকার তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদের নিশ্চয়ই বোধ আছে। তাদের ভাষায় এত নির্যাতন আর অগণতান্ত্রিক আচরণ হওয়ার পরও জনগণ কেন কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করছে না। তাহলে কি ধরে নিতে হবে, জনগণ এসবকে নির্যাতন হিসেবে মনে করে না? বিষয়টা অন্যভাবেও দেখা যায়- হয়তো জনগণও কথিত অগণতান্ত্রিক আচরণগুলো পছন্দ করে না। কিন্তু তারা এটাও মনে করছে- গণতন্ত্রকে যারা মান্য করে তাদের জন্যই গণতান্ত্রিক আচরণ প্রযোজ্য। বিএনপিও যেহেতু গণতন্ত্র বিরোধী হিসেবেই তাদের কাছে চিহ্নিত, তাই বিএনপি’র চিৎকারকে তারা আমলে আনছে না। উদাহরণ হিসেবে অসংখ্য ঘটনাকে এখানে তোলে ধরা যায়। সেদিকে না গিয়ে উপসংহার টানা যায়- জনগণ বিএনপিকে গ্রহণ করছে না। যার প্রতিফলন রংপুরে দেখা গেছে। আর সেই ধারাই যদি অব্যাহত থাকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, সিলেট, বরিশাল, খুলনাতেও তাহলেও কি অবাক হওয়ার কিছু থাকবে?

তারপরও উদ্বেগ উৎকণ্ঠা এবং আশায় ভর করে আমরা কাটিয়ে দেব আরেকটি বছর- ২০১৮। কামনা থাকবে সুন্দরভাবেই যেন গত হয় আগামী সময়টা।

 লেখক- সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক।  








« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: [email protected], [email protected], [email protected],   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft