For English Version
বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮
হোম অর্থ ও বাণিজ্য

বাণিজ্য মেলার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে (ভিডিও)

Published : Wednesday, 27 December, 2017 at 5:42 PM Count : 186

পদ্মাসেতুর আদলে তৈরি বাণিজ্য মেলার প্রধান ফটক

পদ্মাসেতুর আদলে তৈরি বাণিজ্য মেলার প্রধান ফটক

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) শুরু হতে আর মাত্র চারদিন বাকি থাকলেও কাজ শেষ হয়েছে ৭৫ থেকে ৮০ ভাগ। বাকি কাজ শেষ করতে স্টলমালিক ও নির্মাণ শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১ জানুয়ারি মেলার আনুষ্ঠাকি উদ্বোধন করবেন। মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

প্রতিবারের মতো এবারও রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) উদ্যোগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের খোলা মাঠে বসছে মাসব্যাপী ২৩তম এই মেলা। বাংলাদেশ ছাড়াও এবারের মেলায় ১৭ দেশের ৫৪০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। গতবার অংশ নিয়েছিল ৫৮৪টি। সে হিসাবে এবার স্টল কমছে ৪৪টি। মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ২৬টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়েছে প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন ১৮টি, মিনি প্যাভিলিয়ন আটটি এবং প্যাভিলিয়ন ২৭টি।

এবারের মেলায় অংশ নেয়া দেশগুলো হলো ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, ভিয়েতনাম, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও হংকং।

অতীতের ন্যায় এবারের মেলায়ও তৈরি পোশাক, হোমটেক্সটাইল, ফেব্রিক্স পণ্য, হস্তশিল্পজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহস্থালি ও উপহার সামগ্রী, চামড়াজাত পণ্য, সিরামিকের তৈজসপত্র, প্লাস্টিক পণ্য, কসমেটিকস হারবাল ও প্রসাধনী সামগ্রী, খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী, জুয়েলারি, নির্মাণ সামগ্রী ও আসবাবপত্রের স্টল থাকছে।

স্টল নির্মাণ চলছে

স্টল নির্মাণ চলছে

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে মেলা প্রাঙ্গণে। মেলায় যাতায়াতের জন্য তৈরি করা হচ্ছে রাস্তা, পদ্মা সেতুর আদলে তৈরি করা হয়েছে মেলার প্রধান ফটক। ছোট ছোট স্টল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে শ্রমিকরা। কাঠ এবং লোহার ফ্রেমে তৈরি করা হচ্ছে এসব স্টল। তবে বড় বড় কোম্পানির প্যাভিলিয়নগুলোর অধিকাংশ নির্মাণ কাজ শেষ করেছে। এখন চলছে রং করা আর সাজসজ্জার কাজ। 

স্টল বরাদ্দ পেতে দেরি হয়েছে অভিযোগ করে ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমান অবজারভারকে বলেন, মেলার স্টল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে। তবে দ্রুত কাজ করার জন্য শ্রমিক সঙ্কট রয়েছে। স্টল তৈরির জন্য অন্তত একমাস সময় দিলে এমন ঝামেলা হতো না।

আরএফএল গ্রুপের মার্কেটিং ব্রান্ড ম্যানেজার মো. শরিফুল ইসলাম অবজারভার অনলাইনকে বলেন, ‘আমাদের আরএফএল-এর প্যাভিলিয়ন এবং স্টলের কাজ প্রায় ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে। সময় মত প্যাভিলিয়ন এবং স্টল বুঝে না দেয়ায় কাজ শেষ হতে দেরি হচ্ছে। আমরা প্যাভিলিয়ন বুঝে পেয়েছি ২০ তারিখে। এর পরে কাজ শুরু করি।

তিনি আরো বলেন, প্রতিবারের মত এবারও আশা করছি বাণিজ্য মেলায় আমাদের ব্যবসা ভালো হবে। এবার আরএফএল ক্রেতাদের জন্য নতুন নতুন উপহার নিয়ে আসছে। মেলা উপলক্ষে ১০ পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট থাকবে। তাছাড়া ক্রেতাদের জন্য ঢাকা-কলকাতা, ঢাকা-থাইল্যান্ড এবং ঢাকা-মালয়েশিয়া ভ্রমণের অফার রয়েছে। ১৫ জনকে এই হ্যাপি টুরের সুযোগ দেয়া হবে। 

মেলায় কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, এবারের মেলা শুরুর আগে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে। অনেকেই এসে চাঁদা দাবি করছে। মেলার সিকিউরিটি ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত দুর্বল। তবে মেলা শুরু হলে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে আশা করছি।

স্টল নির্মাণ চলছে

স্টল নির্মাণ চলছে

বাণিজ্য মেলার পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান অবজারভারকে বলেন, মেলার কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি বাকি কাজ ৩১ তারিখের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। দেরিতে প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মালিকদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এমন অভিযোগের কথা আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। এমন কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। সব নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। বরং আমার কাছে খবর এসেছে যে, আমরা এবছর একটু আগেই বরাদ্দ দিয়েছি। আমরা নীতিগত অনুমতির আগেই তাদের কাজ শুরু করতে দিয়েছি। 

বাণিজ্য মেলা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, মেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবশ্যই ভাল করা হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আমাদের সাথে আছে। এছাড়া র‌্যাব, অনসার, বিজিবি এবং প্রাইভেট সিকিউটি থাকবে। মেলায় পাঁচস্তরের নিরাপত্তা থাকবে।  

ইপিবির সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন বাণিজ্য মেলায় জায়গা পেতে এবার ১৩০০ আবেদন জমা পড়ে। এ আবেদনের বিপরীতে লটারি ও টেন্ডারের মাধ্যমে মাত্র ৫১৪ স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 

স্টল নির্মাণ চলছে

স্টল নির্মাণ চলছে

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারে মেলা নতুন আঙ্গিকে সাজানোর পরিকল্পনা অনুযায়ী নকশায় ভিন্নতার পাশাপাশি নান্দনিক গেট, ডিজিটাল লে-আউট প্ল্যান করা হবে। এবারে মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে প্রধান ফটক। গত কয়েক বছর ধরে কার্জন হলের আদলে তৈরি হয়েছিল মেলার প্রধান ফটক। এবার তার পরিবর্তে পদ্মাসেতুর পিলারের ওপর বসানো প্রথম স্প্যানের আদলে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চিত্র তুলে ধরা হবে। সে ক্ষেত্রে এবার মেলার মূল ফটকের পাশে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হবে। এছাড়া মেলার মধ্যে ডিজিটাল টাচস্কিন থাকবে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্টল ও প্যাভিলিয়ন চেনা যাবে।

এবারের মেলার ব্যতিক্রমী আয়োজন বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নকে আরো তথ্যবহুল করা হবে। এ জন্য প্যাভিলিয়নের আয়তন বাড়ানো হয়েছে। মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও পাখির পরিচিতির জন্য আলাদা আয়োজন থাকবে। মেলায় গত বছর সুন্দরবনের আদলে কোনো পার্ক ছিল না। এবার সুন্দরবন পার্ক করা হবে। মেলায় এবার মঞ্চ থাকবে। যেখানে প্রতি সপ্তাহে দুদিন লোকজ ঐতিহ্য ধারণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন হবে।

গত বছরের মেলায় ৮০ কোটি টাকার রফতানি আদেশ পাওয়া গিয়েছিল। এবারের মেলায় এর পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

আরইউ/এইচএস








« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: info@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com,   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft