For English Version
শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
হোম সারাদেশ

লোকসান পুষিয়ে নিতে আলু চাষ ব্যস্ত রাজশাহীর চাষিরা

Published : Wednesday, 6 December, 2017 at 6:41 PM Count : 51

শেষ সময়ে কোল্ড স্টোরেজে রক্ষিত পুরানো আলুতে ব্যাপক লোকসান গুণতে হচ্ছে চাষি ও ব্যবসায়ীদের। এই অবস্থায় চলতি মৌসুমে লোকসান পুষিয়ে নিতে নতুন উদ্যোমে আলুর নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা।

রাজশাহীর আলু চাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত মৌসুমের শুরুতে আলুর ভাল দাম থাকলেও শেষে এসে দাম না পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীদেরকে লোকসান দিতে হচ্ছে। 

গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার চাষিরা আলু আবাদ করতে মাঠে নেমে পড়েছেন। ইতিমধ্যে চলতি মৌসুমের প্রায় ৩০ ভাগ জমিতে আলু লাগানো হয়েছে।

চাষিরা বলছেন, গত ২/৩ বছর যাবত আলুর আবাদ ও উৎপাদন ভালো হচ্ছে। গত বছর তারা উঠতি মৌসুমে আলুর দামও পেয়েছেন ভালো। উঠতি মৌসুমে ১ হাজার থেকে ১১শ’ টাকা বস্তা (৮৫ কেজি) বিক্রি হলেও শেষে এসে আলুর দাম কমে যায়। এতে অনেক চাষি ও ব্যবসায়ীদেরকে লোকসান গুনতে হয়। অনেকে আশঙ্কা করছেন লোকসানের কারণে এবার আলু আবাদ কমে যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টোটা। লোকসান পুষিয়ে নিতে গত বছরের চেয়ে বেশি জমিতে এবার আলু আবাদ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহীর বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত মৌসুমে আলুর আবাদ ভালো হওয়ায় এখানকার ৩২টি কোল্ড স্টোরেজে প্রায় ৪৩ লাখ বস্তা (প্রতিবস্তা ৮৫ কেজি) আলু সংরক্ষণ করা হয়। শুরুতে দাম ভালো থাকলেও শেষে এসে আলুর দাম পড়ে যায়। গত মঙ্গলবার প্রতিবস্তা স্টোরের আলু ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এরমধ্যে স্টোর ভাড়াসহ খরচ ৪শ’ টাকা। সব বাদ দিয়ে প্রতিবস্তা আলু বিক্রি করে এখন চাষিরা পাচ্ছেন ৫০ থেকে ১শ’ টাকা। এতে বস্তায় লোকসান হচ্ছে ১ হাজার টাকা। এখনও কোল্ডস্টোরেজ গুলোতে শতকরা ২০ ভাগ (বীজসহ) আলু রয়ে গেছে। অথচ অন্যান্য বছর নভেম্বরের শেষে কোল্ডস্টোরেজগুলো খালি হয়ে যায়। 

এবার ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ স্টোর খালি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিস্থিতিতে আলু চাষি, ব্যবসায়ি ও কোল্ডস্টোরেজ মালিকদেরকে ব্যাপক লোকসান গুণতে হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত আলু চাষি পবার বড়গাছির রহিমুদ্দিন সরকার বলেন, গতবছর তিনি ১০ ও তার ৩ ছেলে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছিলেন। তিনি আগেই আলু বিক্রি করায় লাভ করেছেন কিন্তু তার ছেলেরা কিছু আলু কোল্ড স্টোরেজে রেখে দেয়ায় এখন সেগুলোতে লোকসান গুণছে। এবার আবারো তিনি ১০ বিঘায় আলু লাগিয়েছেন এবং তার ছেলেরাও আলু লাগাচ্ছে। গত বছর চাষিরা আলুতে লোকসান দেয়ায় এবার সেই লোকসান পুষিয়ে নিতে আরো বেশি জমিতে আলু আবাদ করা হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরো বলেন, রাজশাহীর কোল্ড স্টোরেজগুলোর ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি আলু এখানে উৎপাদন হচ্ছে। তাই স্টোরে জায়গা না পাওয়ায় অনেকে অন্যান্য জেলায় আলু বিক্রি করে দেয়। তাই রাজশাহীতে কোল্ড স্টোরেজের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। সেই সাথে আলু বিদেশে রপ্তানি করার জন্য সরকারের পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ১৫০ হেক্টরে। লক্ষ্যমাত্রার শতকরা ৩০ ভাগ জমিতে আলু লাগানো সম্পন্ন হয়েছে। গতবছর এখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪০ হাজার ৯শ’ হেক্টর, আবাদ হয়েছিল ৪৩ হাজার ৪৮১ হেক্টর।

আরএইচএফ/এইচএস








« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: info@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com,   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft