For English Version
শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭
হোম মতামত

ঢাকা শহরে খাদ্য বিপত্তি : নাগরিক স্বাস্থ্যের প্রতি হুমকি

Published : Tuesday, 5 December, 2017 at 7:52 PM Count : 3167

ঢাকা মহানগরীর নাগরিক জীবন গত কয়েক যুগ ধরে খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিতে রয়েছে।  দিনে দিনে বাইরের খাবারের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে উঠছেন নাগরিকরা। ক্রমবর্ধমান নগরায়নের কারনে পরিবর্তিত জীবনধারায় কর্মজীবী মানুষ দাপ্তরিক কাজের সাথে খাপ খাওয়াতে গিয়ে বাধ্য হচ্ছে বাইরের খাবার খেতে। অথচ যেসব খাবারের পরিছন্নতা ও বিশুদ্ধতা উভয়ই মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

হাজারও হোটেল এবং রেস্টুমরেন্ট যেমন আছে এই মহানগরীতে; পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর খোলা খাবারের দোকান। উন্মুক্ত পরিবেশে ধূলাবালি ও জীবানু সংক্রমনের স্বভাবিক দূষণতো আছেই, পাশাপাশি বিশুদ্ধ খাবার পানির অপ্রতুলতায় খাদ্য উদ্ভূওত রোগ দিন দিন বেড়ে চলেছে। যার কারনে ঔষধ বাবদে মাসিক ব্যয় প্রায় প্রতিটি পরিবারের অন্যতম প্রধান খরচ খাত।

সুস্থ শরীর বজায় রাখা আজকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, এমনকি তাদের জন্যও যারা অত্যন্ত স্বাস্থ্য সচেতন। খাদ্য, যা আমাদের বেচেঁ থাকার জন্য জরুরি, তা আজকে আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজে উৎপন্ন করা না হলে প্রায় কোন খাদ্যই বিশুদ্ধ নয়। খাদ্যে ভেজাল ও ভোক্তাদের খাদ্য বিপত্তির সম্ভাবনা ঢাকার খাদ্য নিরাপত্তা এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের উপর বিশাল প্রভাব ফেলছে। অত্যধিক কীটনাশক ও অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার, রাস্তায় বিধি বহির্ভূতভাবে খাদ্য  বিক্রি এবং খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে স্বল্প সচেতনতা ঢাকা  নগরবাসীদেরকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

তেমন কোন আইন কানুন ছাড়াই ঢাকা শহরে হাজার হাজার হোটেল ও রেস্টুকরেন্ট সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে  আছে। এ সংক্রান্ত  কিছু আইন অবশ্য আছে, যেমন- নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩। কিন্তু যারা এই হোটেল রেস্টুারেন্টগুলো পরিচালনা করছে, তারা এই আইনগুলো সম্পর্কে অবগত নয় বা বুঝতে পারে না।

তারা খাদ্য প্রস্তুতকরণ, সংরক্ষণ ও পরিবেশন সংক্রান্ত আইনগুলো সমন্ধে ওয়াকিবহাল নয়। সাধারণত এই হোটেল- রেস্টুকরেন্টে স্বল্প বেতনে কর্মচারী নিয়োগ  দেওয়া  হয় যারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সমন্ধে খুব একটা সচেতন নয়। তাদের কর্মস্থলের পরিবেশও তাদেরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার সুযোগ দেয়না। এই রেস্টুেরেন্ট মালিক ও কর্মচারীদের কারোরই বিশুদ্ধতার সাথে খাদ্য তৈরি এবং সংরক্ষণের কোন প্রশিক্ষণ নেই।

ঢাকা শহরে একটি রেস্টুষরেন্ট চালু করতে একটি ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া আর তেমন কিছুরই দরকার পড়ে না। সিটি কর্পোরেশন ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার সময় তেমন কিছুই পরীক্ষা করে না যদিও আইন অনুযায়ী তাদের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করার কথা। কিন্তু এগুলো যদি যাচাই করাও হতো খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তা যথেষ্ট হতো না। আমরা মাঝে মাঝেই শুনতে পাই অনিরাপদভাবে খাদ্য প্রস্তুত করা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে মোবাইল কোর্ট হোটেল- রেস্টুঅরেন্ট গুলোকে জরিমানা করছে। কিন্তু এটি এই সমস্যার কোন স্থায়ী সমাধান নয়।

ঢাকা শহরজুড়ে অনিরাপদ কর্মচর্চার প্রেক্ষিতে অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জারিমানা করা হলে তার তেমন কোন প্রভাব তৈরি হবে না। তার উপরে, কেন আমরা এদেরকে জরিমানা করছি? আমরা তাদেরকে কোন ধরণের প্রশিক্ষণ দিইনি অথবা তাদেরকে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতনও করিনি।

সরকারের তরফ থেকে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি প্রচারে কোন প্রচেষ্টা না থাকার কারণে আমরা রেস্টুররেন্ট মালিকদেরকে অনিরাপদ কার্যবিধির কারণে জরিমানা দিতে বাধ্য করতে পারিনা। জরিমানা দেওয়ার পরেও তারা আসলে পরিষ্কার ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে পারে না। কারণ বাস্তবে এই বিষয়ে তাদের জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। আর এসবের মধ্য দিয়ে আমরা ঢাকাবাসীরা মারাত্মক দুর্ভোগ সহ্য করছি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক “মিনেসোটা ইউনিভার্সিটির” পশু স্বাস্থ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তা কেন্দ্রের ২০০৬ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয় বাংলাদেশের পাঁচ বছরের নিচে শিশুরা অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণের কারণে সবচেয়ে বেশী ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে ঐ বয়সশ্রেণীতে ১৮ শতাংশ মৃত্যু হয়ে থাকে। পরিণত বয়সের মানুষদের ১০ শতাংশের মৃত্যু অনিরাপদ খাদ্যের ফলে হয়।

এই সমস্যাটি সাধারণত তিনটি কারণে হয়ঃ খাদ্যে ভেজাল, কীটনাশকের ব্যবহার এবং খাদ্য দূষণ। ২০০৬ থেকে আজ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি আরও অনেক খারাপ হয়েছে এবং ঢাকা শহরে এমন কোন পরিবার নেই যারা কখনো কোন ধরণের খাদ্য বিপত্তির সম্মুখীন হয়নি। মাঝে মাঝেই আমরা পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, পাকস্থলীর ব্যথা ইত্যাদিতে আক্রান্ত হই। কিন্তু এটি আরও বড় ক্ষতি, এমনকি নানা ধরণের ক্যান্সারের কারণ পর্যন্ত হতে পারে। যদি আমরা দূষিত ও ভেজাল খাদ্য দিনের পর দিন গ্রহণ করতে থাকি তাহলে অদূর ভবিষ্যতে নিশ্চিতভাবে ভয়ানক বড় রোগে আক্রান্ত হব।

বাংলাদেশের রাস্তাঘাটের যে সব খাদ্য ব্যবসায়ীরা আছেন, খাদ্য দূষণের সবচেয়ে বড় উদাহরণ তারা। ২০১৫ সালের আইসিডিডিআরবি-এর একটি গবেষণা অনুযায়ী এই সব খাদ্য বিক্রেতাদের ৮৮ শতাংশের মত জীবানু ভর্তি থাকে এবং দুই-তৃতীয়াংশ খাদ্য বিক্রেতা খাদ্য প্রস্তুতকালে হাতে ব্যাক্টেরিয়া ধারণ করে।

এর পাশাপাশি যে পানি তারা ব্যবহার করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেটি ময়লা অথবা দূষিত। তারা খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক সংরক্ষক, রাসায়নিক দ্রব্য, রং ও উপকরণ ব্যবহার করে। স্বাস্থ্য নিয়ে তারা মোটেও চিন্তিত নয় আর মানুষও যেনো অপরিচ্ছন্ন হলেও সস্তায় খাদ্য কিনতে চায়। দূষিত বায়ুতে থাকা ধূলাবালি এই রাস্তার খাবারগুলোকে আরও দূষিত করে তোলে এবং বিভিন্ন রোগের প্রধান উৎসে পরিণত করে।

খাদ্যে ভেজাল নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। ফরমালিন এবং বেশকিছু ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তা তেমন কোনো প্রভাব তৈরি করতে পারেনি। এখনো আমরা  শুধুমাত্র বাজারেই নয়, বড় বড় চেইন শপেও দূষিত এবং বিপজ্জনক খাদ্যদ্রব্য খুঁজে পাই।এগুলো প্রত্যক্ষভাবে ক্যান্সার এবং আরও অনেক মারাত্মক ব্যধি তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কোন পথ দেখা যাচ্ছে না। আমরা এখনও যেসব খাদ্য গ্রহণ করছি তা বিষের সমতুল্য।

বিভিন্ন কোম্পানী, এমনকি বড় বড় কোম্পানীগুলোরও স্ন্যাকস্, বেকারী আইটেম, খাদ্য উপকরণ, জুস এবং কোমল পানীয় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই অনিরাপদ। আমরা চিন্তাও করতে পারবো না কি দিয়ে এগুলো তৈরি করা হয়। মাঝে মাঝেই আমরা গুজব শুনি যে, পচা পেপে থেকে আমের জুস তৈরি হচ্ছে অথবা ইটের গুঁড়া থেকে মরিচের গুঁড়া তৈরি হচ্ছে ইত্যাদি। এগুলো হয়তো সত্যি নয় কিন্তু এটা সত্য যে, এগুলো যথার্থ উপকরণ দিয়ে তৈরি নয় এবং এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু তারপরেও কোন বিকল্প না থাকায় ঢাকা শহরে আমাদের এগুলোই খেতে হচ্ছে।

ঢাকায় হাসপাতাল, ক্লিনিক, প্যাথলজি সেন্টার ও ফার্মেসীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে এবং এর কারণ হলো রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। প্রতি বছরেই আমরা বেশী থেকে আরও বেশী অর্থ চিকিৎসা ও ওষুধের পেছনে খরচ করছি আর এর মূল কারণ হচ্ছে দূষিত ও ভেজাল খাদ্য।

যেকোনো উন্নত রাষ্ট্রে খাদ্য নিরাপত্তাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হয়। কিন্তু আমরা এর উপর খুব একটা গুরুত্ব আরোপ করি না। ঢাকার নাগরিকদেরকে একটি সম্পূর্ণ অসুস্থ ও ক্ষতিকর জীবনযাপনের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে আমাদের এখনই কিছু শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সরকারকে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করতে হবে যেখানে যদি কেউ রেস্টু রেন্ট চালু করতে যায় তাহলে তাকে খাদ্যের মান নিশ্চিতকরণ ও পরিচ্ছন্ন রান্নাঘর ব্যবস্থাপনার উপরে অবশ্যই ৪-৬ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এই প্রশিক্ষণ শেষ হবার পর তাদেরকে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করতে হবে।

সিটি কর্পোরেশন, খাদ্য মহাসচিবের দপ্তর, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যলয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগ এবং এনজিওগুলো এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করতে পারে। একই সাথে তারা বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালাতে পারে। রেস্টুকরেন্ট মালিকেরা তাদের দোকানের কিছু কর্মীকেও এই প্রশিক্ষণে অবশ্যই অন্তর্ভূক্ত করবে এবং তারা অন্যদেরও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিষয়গুলো শেখাবে।

যদি মালিক ও ৩০ শতাংশ কর্মচারীর এই প্রশিক্ষণ না থাকে তাহলে রেস্টু রেন্ট খোলার জন্য তাদের কোনো ট্রেড লাইসেন্স দেয়া যাবে না। বিভিন্ন দেশে এই বন্দোবস্ত অনেক আগে থেকেই চালু রয়েছে এবং তারা সফলভাবে তাদের ভোক্তাদের জন্য খাদ্যের মান নিশ্চিত করছে।

রাস্তাঘাটে খাদ্য বিক্রেতাদেরকেও তাদের খাদ্যের গাড়ী অথবা ভ্যান পরিচালনার জন্য অবশ্যই একটি লাইসেন্স নিতে হবে। সরকার তাদেরকে খাদ্যের বিশুদ্ধতা নিশ্চিতে সহায়ক আধুনিক ও যথার্থ একটি ভ্যানও দিতে পারে যা থেকে তারা খাদ্য বিক্রয় করবে। এদেরকেও ছোট ছোট দলে স্বাস্থ্যকর খাদ্য প্রস্তুতকরণ, বিশুদ্ধতা নিশ্চিতকরণ ও পরিষ্কারভাবে খাদ্য সংরক্ষণের উপর প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এদেরকেও কোনো না কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে কারণ সমাজের খাদ্য ব্যবস্থায় এই রাস্তাঘাটের খাদ্য বিক্রেতাদের ভূমিকা কখনোই ছোট করে দেখা যাবে না।

কৃষকদের রাসায়নিক কীটনাশক বিশেষত যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির সম্ভাবনা সৃষ্টি  করে সেগুলোর ব্যাপারে শিক্ষা প্রদানে গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। থানা ও ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তাদেরকে অবশ্যই এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। তাদেরকে ফরমালিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে একটি শক্ত সচেতনতাও বিস্তার করতে হবে। স্বাস্থ্যের উপর ফরমালিনের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরাটাই হবে এই প্রচারণার উদ্দেশ্য। এইসব নিয়মকানুনগুলো ভঙ্গ করলে কি শাস্তি হতে পারে সেটাও অবশ্যই প্রচার করা দরকার।

খাদ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথমত বিবেকবোধের উপর প্রশিক্ষণ দিতে হবে আর তারপরে তাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিয়মনীতি মেনে চলার উপরে গুরুত্ব দিতে হবে। খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতকালে কোনো ভুল বা ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার করলে কি হতে পারে সেটাও তাদেরকে জানাতে হবে। তাদেরকে খাদ্যে সংরক্ষক বা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করলে কি ধরণের স্বাস্থ্য বিপত্তির সৃষ্টি হতে পারে, সেটাও জানাতে হবে।

সরকারকে এই প্রশিক্ষণগুলো ও সচেতনতামূলক প্রচরণা চালাবার ব্যাপারে প্রাথমিক উদ্যোগ নিতে হবে। সবচেয়ে জরুরি ব্যাপার হলো যে, খাদ্য বিষয়ক সকল প্রক্রিয়া ও অনুমতিগুলো দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। এই বিষয়ে সকলকে বিবেকবোধের ব্যবহার করতে হবে কারণ এটি একটি জাতির স্বাস্থ্যের প্রশ্ন।

ঢাকার নাগরিকদেরও জানতে হবে যে তারা কি খাচ্ছে। সংরক্ষক দ্রব্যযুক্ত খাদ্য গ্রহণকে এড়াতে তাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। দৈনিক আমরা যেই খাবার খাই, তার ১০ শতাংশের বেশী সংরক্ষকযুক্ত হওয়া উচিৎ নয়। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষাতেও খাদ্য ও পুষ্টিকে ‍গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য আমাদের নিজেদেরই সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশে খাদ্য বিষয়ক অনেক আইন রয়েছে যেমন, ‘বাংলাদেশ পিওর ফুড অর্ডিন্যান্স (১৯৫৯)’, ‘ মৎস ও মৎসজাত দ্রব্য বিধিমালা (১৯৯৭)’,  ‘রেডিয়েশন প্রটেকশন অ্যাক্ট (১৯৮৭)’ ইত্যাদি। যদি খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতকারকেরা, কৃষকেরা, রেস্টু্রেন্ট মালিকেরা এবং রাস্তাঘাটে খাদ্য বিক্রেতারা খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক আইন ও সমস্যাগুলো সমন্ধে ভালোভাবে অবগত থাকে, তাহলে সরকারের এই আইনগুলো ভালোভাবে কাজ করবে।

খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য এবং বাংলাদেশীদের, বিশেষত ঢাকাবাসীদের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সকল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরকে প্রথমে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত করতে হবে। আর তারপরে আমাদেরকে পর্যবেক্ষণ ও শাস্তির বন্দোবস্ত করতে হবে। যদি একটি সমন্বিত ও দুর্নীতিমুক্ত পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয় তবে আমরা আশা করতে পারি যে,  ঢাকা থেকে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক স্বাস্থ্য বিপত্তিগুলো কমাতে এমনকী সম্পূর্ণরূপে দূর করতেও আমরা সফল হবো।

সারা বাংলাদেশ থেকে নানা কারণে ঢাকায় প্রচুর লোকজন আসে। আমরা যদি ঢাকাকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের আদর্শে পরিনত করতে পারি, তাহলে তা সারা বাংলাদেশেও নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই আমাদেরকে ঢাকা থেকে খাদ্য বিপত্তি দূর করতে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। আর তাহলেই আমাদের নাগরিকদের আমরা অসুস্থতা ও অসুখ-বিসুখের হাত থেকে অনেকাংশেই রক্ষা করতে পারবো।

লেখক : প্রধান সম্পাদক, মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী (এমএনএ)








« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: info@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com,   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft