For English Version
শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭
হোম অনলাইন স্পেশাল

বাজার গরমে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ!

Published : Tuesday, 5 December, 2017 at 4:47 PM Count : 59

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম চলতি সপ্তাহে বাজার ভেদে কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বাজারে মৌসুমী শাক-সবজির আমদানি বৃদ্ধি পাওয়া দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। অতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের জন্যই সাধারণ মানুষকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবজির খুচরা দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি বেগুন ৫০ টাকা, ধনিয়াপাতা ৮০-৯০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৫০ টাকা, আলু ২০ টাকা, পেঁপে ২০-২৫ টাকা, সিম ৪০-৫০ টাকা, টমেটো ৮০-৯০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৪০-৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫৫-৬০ টাকা, প্রতি পিস বাঁধাকপি ২০-২৫ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ২০-২৫ টাকা, বরবটি ৫০-৫৫ টাকা, পেঁয়াজ পাতা ৫০ টাকা ও লালশাক ১০ টাকা করে আঁটি বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ টাকা। আদা ৯০ টাকা, রসুন ১২০ টাকা। মসলার দামও তুলনামূলকভাবে বেড়েছে দ্বীগুণ। লবঙ্গ ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা, এলাচ ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা এবং হলুদ ১৯০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির দাম বৃদ্ধি নিয়ে বিক্রেতারা বলেন, শীতকালীন সবজির বাজার এখনও যথেষ্ট পরিমাণ না আসায় বাজারে এর দামের প্রভাব পড়েনি। যা আসছে তাও পরিমাণে খুবই কম। আর নতুন সবজি  বাজারে আসলে তার চাহিদা থাকায় দাম একটু বেশি হয়। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণ সবজি আসলে দাম এমনিতেই কমে যাবে। 

পেঁয়াজের দাম লাগামহীন কেন? জানতে চাইলে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেন, আমরা খুচরা বিক্রেতারা বিভিন্ন পাইকারী বাজার থেকে পেঁয়াজ কিনে বিক্রি করি। পাইকারী বাজারে যদি দাম বেশি হয় তবে খুচরা তো বেশি হবেই। তবে পাইকারী বিক্রেতাদের দাবি, আমদামি খরচ ও ডলারের দাম স্থিতিশীল হওয়ায় পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ। বাজারে প্রতি কেজি ছোলা ৯০ থেকে ৯৫ টাকা, দেশী মুগ ডাল ১৩০, ভারতীয় মুগ ডাল ১২০, মাষকালাই ১৩৫, দেশী মসুর ডাল ১২৫, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কম থাকলেও বেড়েছে গরু এবং খাসির মাংসের দাম। একই সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে মাছের দাম। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, দেশে মুরগি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পিস, গরুর মাংস ৪৮০ টাকা বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা, খাসির মাংসের দাম ৮০০ টাকা কেজি। 

এদিকে রুই মাছ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ টাকা, সিলভার কার্প ২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৫০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, মাগুর ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং মাঝারি আকারের প্রতিটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে।

বিশেষ করে চালের বাজারে গেলে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্যদের। অনেকেই চাল কেনার পরে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কি সবজি বা মাছ কিনবে। চালের দাম বাড়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে বার বার দাম কমার কথা বলা হলেও বাজারে এর প্রভাব নেই। যে হারে দাম বেড়েছে সে তুলনায় দাম কমেনি কিছুই বলে মনে করছেন ক্রেতারা। চালের মিল মালিকদের সঙ্গে সরকারের প্রতিনিধিদের আলোচনা-সংলাপ সবই লোক দেখানো বলেও দাবি সাধারণ মানুষের। চালের দাম এতোটা বৃদ্ধি পেয়েছে যে অনেকের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। চালের খুচরা বাজারে মিনিকেট ৬০ টাকা, নাজিরশাইল ৬৮ টাকা, ভারতীয় আটাশ চাল ৪৭ টাকা, দেশি আটাশ চাল ৫৪ টাকা এবং ভারতীয় মোটা চাল (স্বর্ণা) ৫৪ টাকা, পাজাম ও লতা নিম্ন মানেরটা ৪৮ টাকা। তবে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে মোটা চালের দাম ৪২ থেকে ৪৬ টাকা। 

চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, দেশে খাদ্যশস্যের সংকট নেই। অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে খাদ্যশস্যের দাম বাড়িয়েছে। অবৈধ মজুতদার, আড়তদার ও মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়ায়। চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য বিএনপিপন্থি ব্যবসায়ীদেরকেও দায়ী করেন তিনি।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান অবজারভার অনলাইনকে বলেন, মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় প্রতিনিয়তো বাড়ছে। নিম্ন আয় এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষদের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের আয় বাড়ছে এটা ঠিক কিন্তু এই যে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেকের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে অনেক সাশ্রয়ী হতে হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের সঞ্চয় কমে গেছে। অনেকেই সঞ্চয় করতে পারছে না। এটা দেশের অর্থনীতির জন্য শুভ লক্ষণ নয়। 

তিনি আরো বলেন, শীতের শাক-সবজি আসতে শুরু করেছে। বাজারে মাছের এবং সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে দাম কমে আসবে বলে মনে করছি আর সরকারী গুদামে যদি চালের মজুদ ৮ থেকে ১০ লাখ টন হয় তাহলে চালের দামটাও কমে আসবে।

আরইউ/এইচএস








« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: info@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com,   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft