For English Version
শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
হোম অর্থ ও বাণিজ্য

নতুন সুবিধা পাবে না পুনর্গঠিত ঋণ

Published : Tuesday, 5 December, 2017 at 10:16 AM Count : 50

বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে পুনর্গঠন করা বড় ঋণে নতুন করে সুবিধার আবেদন নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। ঋণ পুনর্গঠনের দুই বছর না যেতেই কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হয়ে পড়ায় তারা আবার পুনঃতফসিলের জন্য সম্প্রতি আবেদন করে।

সোমবার সিদ্ধান্তের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ পর্ষদ বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করে। পর্ষদ বলেছে, শর্ত শিথিল করে বড় ঋণে সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় এ নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছে। এসব ঋণে এখন নতুন করে কোনো সুবিধা দেওয়া ঠিক হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা দেওয়া হয়। আগের নীতিমালা যেহেতু পর্ষদ অনুমোদন করেছিল সে জন্য তা সংশোধন করা হবে কি-না সে বিষয়ে পর্ষদের মতামত চাওয়া হয়। তবে পর্ষদ এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। ফলে পুনর্গঠিত বড় ঋণ নতুন কোনো সুবিধা পাবে না।

গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ ১২ বছরের জন্য পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একটি নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সুদহার কমানো, পরিশোধের মেয়াদ বৃদ্ধি, ডাউনপেমেন্টের শর্ত শিথিলসহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে ১৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন করা হয়। বেক্সিমকো, যমুনা, সিকদার, আবদুল মোনেম, কেয়া, থারমেক্স গ্রুপসহ ১১টি প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পায়। এসব ঋণে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড (কিস্তি মুক্ত) সুবিধা দেওয়া হয়। তবে অর্থ পরিশোধের সময় আসতেই চলতি বছরের শুরুর দিকে নতুন করে বিভিন্ন সুবিধা চেয়ে যৌথ আবেদন করে এসএ গ্রুপ, রতনপুর গ্রুপ ও এম আর গ্রুপ। এসব প্রতিষ্ঠানের দুই হাজার ৩১৫ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন করা হয়েছিল।

এসব প্রতিষ্ঠানের আবেদনে বলা হয়, পুনর্গঠিত মেয়াদি ঋণ পরিশোধে ১২ বছরের স্থানে তাদের ২০ বছর সময় দিতে হবে। নতুন করে আর কোনো সুদ আরোপ না করে শুধু বিদ্যমান ঋণ কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিতে হবে। আর বিদ্যমান গ্রেস পিরিয়ড তথা ঋণের প্রথম কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ আরও বাড়াতে হবে। এসবের পাশাপাশি ব্যাংকগুলো নতুন করে যেন তাদের চলতি মূলধন ঋণ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সে ব্যবস্থা করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রথম দফাতেই এ আবেদন নাকচ করে দেয়। পরবর্তী সময়ে অন্য একটি গ্রুপ শর্ত শিথিলের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে। এরপর পর্ষদে উপস্থাপনের নির্দেশ আসে।

এর আগে গত ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে অধিকতর যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করতে বলা হয়।

২০১৫ সালের নীতিমালায় বলা হয়, পুনর্গঠিত ঋণ আর পুনঃতফসিল করা যাবে না। সুবিধা নেওয়া কোনো প্রতিষ্ঠান সময়মতো কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে সব ধরণের সুবিধা বাতিল হবে। এছাড়া টানা দুটি কিস্তি খেলাপি হলে সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমুদয় অর্থ আদায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক দেউলিয়া আইনে মামলা করতে পারবে। আর পুনর্গঠনের জন্য প্রথমে গ্রাহক ব্যাংকের কাছে আবেদন করবে। ব্যাংক থেকে গ্রাহকের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা ও নগদ অর্থের প্রবাহ বিষয়ে 'এ' ক্যাটাগরির চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি ফার্ম থেকে প্রত্যয়ন নিয়ে নিজ পর্ষদ থেকে অনুমোদন করে পাঠাতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকে। ঋণ পুনর্গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে গঠিত কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে তা অনুমোদিত হয়।

-এমএ








« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: info@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com,   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft