For English Version
শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭
হোম রাজনীতি

সারাদেশে বিএনপির বিক্ষোভ চলছে

Published : Sunday, 3 December, 2017 at 12:33 PM Count : 226

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে  রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলা ও থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে দলটির নেতাকর্মীরা।  রবিবার বেলা ১২টার দিকে দলটির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনকালে কোথাও কোনো বাধা বা গ্রেফতারের খবর এখনও পাওয়া যায়নি বলে তিনি অবজারভার অনলাইনকে জানান। 

এরআগে গত বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে না যাওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির করে আদালত।
 
রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতে হাজির হয়ে সময়ও চেয়েছিলেন। এমনকি হরতাল শেষ হওয়ার পর খালেদা জিয়া আদালতে আসতে চান বলে আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করলেও তা নাকচ করে দিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী ও ন্যাক্কারজনক। এই ঘটনা সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার প্রধানের পাশবিক জিঘাংসার প্রতিফলন এটি। জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে হিংসাপরায়ণ সরকারের বিভিষিকাময় আস্ফালন। 

এ আদালতে খালেদা জিয়া যে ন্যায় বিচার পাবেন না মন্তব্য করে তিনি বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আরও পরিস্কার হলো যে এ আদালতে তিনি (খালেদা জিয়া) ন্যায় বিচার পাবে না। যেখানে প্রধান বিচারপতির নিরাপত্তা নেই। জোর করে অসুস্থতার মিথ্যা কথা বলে ছুটিতে পাঠিয়ে দেশত্যাগে তাঁকে বাধ্য করা হয়। তারপর বিদেশে প্রধান বিচারপতির নিকট সরকারের লোকেরা গিয়ে হুমকি দিয়ে তাঁকে অবসর নিতে বাধ্য করে। সেখানে বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রধান কিভাবে ন্যায় বিচার পাবেন ? 

বিএনপির এই নেতা বলেন, যেখানে প্রতিহিংসার বিষ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অন্তরে অম্লান থাকে, সেখানে জনগণের স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের মুক্তি কঠিন হয়ে পড়ে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি সরকারের নিষ্ঠুর ও বন্য আক্রোশেরই বহিঃপ্রকাশ। 

সরকারের কারসাজিতেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পিত ও নীলনকশার অংশ সেটা বুঝতে কারও বাকি নেই। ভোটারবিহীন সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জান্তব হিংস্রতায় জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। মনে হয়-বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এক ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসার জ্বালা সরকার প্রধানের মনের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলছে, এ আগুন যেন অনির্বাণ। নিপীড়ণের মাত্রা কত তীব্র হলে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালা মিটবে তা সর্বশক্তিমান আল্লাহই জানেন। 

তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা দায়ের, গ্রেফতারী পরোয়ানা, অশ্রাব্য-কুশ্রাব্য গালিগালাজ, মিথ্যাচারের অবিরাম ধারাবর্ষণ প্রতিনিয়তই চলছে খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর ওপর। এক্ষেত্রে এক শ্রেণীর ভাড়াটে  বুদ্ধিজীবিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রায় ১০ বছর ও তাদের মদদপুষ্ট ১/১১ সরকারের ২ বছরসহ একযুগ ধরে বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কোন দূর্নীতি প্রমাণ করতে পারেনি। আদালতকে কব্জায় নিয়ে খালেদা জিয়ার উপর আক্রমণ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
 
এসময় সরকারের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, সরকারকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই-জনমতই হচ্ছে সর্বোচ্চ রায়। এই রায়ে জিয়া দেশের মানুষের সত্যিকার ও ন্যায়সঙ্গত প্রধান প্রতিনিধি, আওয়ামী সরকার বা বর্তমান সরকার প্রধান নন। যারা হত্যা, বেআইনী গুম, খুনকে ব্রত করে সরকার চালাচ্ছেন তারা হাহাকারে বাতাস যে ক্রমশ: ভারী হয়ে উঠেছে সেটি তারা আন্দাজ করতে পারছে না। জনতার স্রোতে ভেসে যাবে সকল ষড়যন্ত্র। দেশের জনগণ দুন্দুভি বাজিয়ে বর্তমান সরকারের পতন নিশ্চিত করবে।

এরআগে ওই পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালত এ পরোয়ানা জারি করেন। প্রসঙ্গত, আজ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাম দলগুলোর ডাকা অর্ধ দিবস হরতালের কারণে নিরাপত্তারজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি আদালতে হাজির হননি।

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক।

২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল (ইকোনো কামাল), ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।


এইচএস








« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: info@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com,   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft