For English Version
শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
হোম আইন-আদালত

বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলবে

Published : Tuesday, 14 November, 2017 at 5:08 PM Count : 78

অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া চিঠি অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।  সুপ্রিম কোর্টের কোনো বিচারপতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি তদন্ত করতে চায় তাহলে সতর্ক হয়ে করতে হবে বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। কারণ এর সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট এবং বিচার বিভাগের সম্মান জড়িত রয়েছে। 

মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণসহ মোট সাতটি পর্যবেক্ষণ দিয়ে আদালত এ নিয়ে করা একটি রুল নিষ্পত্তি করেছেন। পর্যবেক্ষণে আদালত এই বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের চিঠি দেওয়া সঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে আরো বলেন, বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধে পাঠানো চিঠিকে সুপ্রিম কোর্টের চিঠি বলা যাবে না। কারণ কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়। 

এসময় আদালত দুদককে উদ্দেশ্যে করে বলেন, তদন্তের আগে কোনো ব্যক্তিকে যেন হয়রানি না করা হয়।

গত ৯ অক্টোবর আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া চিঠি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। গত ৩১ অক্টোবর এই চিঠির বৈধতা সংক্রান্ত রুলের শুনানি শেষে তা যে কোনও দিন রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার পর্যবেক্ষণসহ এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই মাসের হিসাব চেয়ে নোটিশ দেয় দুদক। তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারেরও অভিযোগ করেছে দুদক।

বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিষয়ে অনুসন্ধানের স্বার্থে চলতি বছরের ২ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে চিঠি দেয় দুদক। এর জবাবে ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দুদকে পাঠায় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

চিঠিতে বলা হয়, ‘বিচারপতি জয়নুল আবেদীন দীর্ঘকাল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি অনেক মামলার রায় প্রদান করেন। অনেক ফৌজদারি মামলায় তার প্রদত্ত রায়ে অনেক আসামির ফাঁসিও কার্যকর করা হয়েছে।’

চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের দেয়া রায় সবার ওপর বাধ্যকর। এমন পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ আদালতের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদক কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করলে, তার দেয়া রায়গুলো প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং জনমনে বিভ্রান্তির উদ্রেক ঘটবে। সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনও রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন হবে না।’

গত ২৮ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া চিঠিটি হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউজ্জামান তরফদার। সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া চিঠি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুলের ওপর বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন। এছাড়া, অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট প্রবীর নিয়োগী ও সমিতির সাবেক সম্পাদক এএম আমিন উদ্দিন।

এইচএস








« PreviousNext »



সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
Editor : Iqbal Sobhan Chowdhury
Published by the Editor on behalf of the Observer Ltd. from Globe Printers, 24/A, New Eskaton Road, Ramna, Dhaka.
Editorial, News and Commercial Offices : Aziz Bhaban (2nd floor), 93, Motijheel C/A, Dhaka-1000. Phone :9586651-58. Fax: 9586659-60, Advertisement: 9513663
E-mail: info@dailyobserverbd.com, news@dailyobserverbd.com, advertisement@dailyobserverbd.com,   [ABOUT US]     [CONTACT US]   [AD RATE]   Developed & Maintenance by i2soft